"মানবতার ফেরিওয়ালা" আলেম সমাজের উদারতা।








করোনা আতঙ্কিত পৃথিবীতে যখন সন্তান বাবার লাশ হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে যায়, স্বামী যখন স্ত্রীকে করোনাক্রান্ত ভেবে জঙ্গলে ফেলে রেখে যায়; তখন মানবতার ফেরিওয়ালা আলেম সমাজের উদারতা টকশো'র সুশীলদের তাক লাগিয়ে যায়।

পুলিশ দায়িত্ব পালন করেন। তারপরও এই দুর্যোগে দায়িত্ব পালনরত কেউ আক্রান্ত হলে ৫ হতে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার পাবেন, ডাক্তাররা আরো বেশি রাষ্ট্রীয় পুরস্কার পাবেন। আর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে ৫০ লাখ পর্যন্ত সহায়তা পেতে পারেন।
এই দুর্যোগের সময় আরেকটি শ্রেণীর নাগরিক, হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান না ভেবে মানুষের জন্য কাজ করছেন, তারা হলেন মাদরাসা শিক্ষিত আলেম সমাজ। মানুষ আজ তাদেরকে চিনেন "মানবতার ফেরিওয়ালা" নামে।

তারা কুর্মিটোলা হাসপাতাল হতে শুরু করে দেশের যেখানে যেখানে করোনার ক্যাম্প করা হয়েছে, সেখানে রাস্তার পাশে, মাটিতে বসে, গাছের ছাঁয়ায় পরিশ্রান্ত শরীর এলিয়ে দেয়, হঠাৎ কেউ মারা গেলে কাফন দাফনের ব্যাবস্থা করতে হবে বলে।
কিন্তু এই নিবেদিতপ্রাণ আলেম সমাজের জন্য সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই, বেতন নেই, পুরস্কারের ঘোষনা নেই, এমন কী সুশীলদের ভাষায় "এইসব মোল্লাদের" পিপিই, মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটেশন কিছুই রাষ্ট্র দিচ্ছে না, তবু জীবন বাজি রেখে তাঁরা কোনো স্বার্থ ছাড়াই কাজ করে চলেছেন।

সরকার কর্তৃক ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর মাধ্যমে সারাদেশে জরুরী অবস্থায় কাফন-দাফনের আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্যরা হলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর মাধ্যমে পরিচালিত দারুল আরকাম মাদ্রাসার শিক্ষক বৃন্দ।
কওমি সনদ স্বীকৃতির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০১০ জন কওমি আলেমসহ ২০২০ জন শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করেন এই মাদ্রাসায়। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস গত পাঁচ মাস যাবত এদের সরকারি বেতন নেই।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত "দারুল আরকাম মাদ্রাসা" প্রকল্পটি পাস না হওয়ায় সুবিধাবঞ্চিত প্রায় দুই লক্ষাধিক শিশুর শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, সাথে ২০২০ জন মানবতার ফেরিওয়ালা আলেম শিক্ষকগণের পরিবারে নেমে এসেছে হাহাকার। কে দেখবে তাদের অসহায়ত্ব!

তবুও মানবতার ফেরিওয়ালা এ সকল আলেমগণ থেমে থাকেননি। জাতির এই দুর্দিনে নিজের জীবন বাজি রেখে অনাহারে-অর্ধাহারে নিজের পরিবার স্বজনদের ঘরে রেখে, এরা জাতিকে সেবা দিয়ে চলেছেন। তাকওয়া ফাউন্ডেশন, মারকাজুল ইসলামী, খিদমাতুল মুসলিমীন সহ বিভিন্ন ব্যানারে এরা করোনা ভাইরাসে মৃতদের কাফন-দাফন সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রীর ব্যবস্থা করে চলেছেন স্বজনদের মতো।

মিডিয়াগুলোর বর্তমানে যথেষ্ট সংবাদ খোরাক না থাকলেও আলেমদের কর্মতৎপরতা গুলো তেমন প্রচার করে না। টকশোতে আলেম সমাজ ও ইসলামী শিক্ষার কঠোর সমালোচনাকারী সুশীলদের আজ মানুষের এই দুর্দিনে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
এমতাবস্থায় পাওয়া গিয়েছে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান স্যারকে। তিনি শেষ পর্যন্ত আলেমদের উদারতার সুযোগটাই গ্রহণ করলেন।
তিনি মারা গেলে তার দাফনটাও এই আলেমরাই করেছেন শেষমেষ। তার শেষ যাত্রায় এক ছেলে, এক ভাই, এক মেয়ে জামাতা ছাড়া কোন আত্মীয় স্বজন, কোন সুশীল, কোন ছাত্র কেউই আসেননি।

এক গুণীজন বলেছিলেন, ইসলামবিদ্বেষীদের বড় পরাজয় এখানে। সারা জীবন ইসলামের বিরোধিতা করে, আলেমদের সমালোচনা করেও মৃত্যুর পর আলেমদের কাঁধে চড়ে শেষ যাত্রা করা। আলেমদের মাধ্যমে জানাজা, আলেমদের হাতের মাটি গ্রহণ, সবি পরাজয় আর লজ্জার শেষ বাস্তবতা। তবুও যদি জীবিতরা বুঝতে পারেন!

মোল্লা মৌলবিদের সরলতা- দুর্বলতা নিয়ে হাসা যায়, তারা আপনাদের মত লোক দেখানো রাজনীতি করতে পারেন না হয়তো, তাদের দিয়ে  সবাই ফায়দা নিয়ে অবমূল্যায়ন করে থাকে, তারা হয়তো নিজেদের কাজটাকেও প্রচার করতে জানেন না।
তবে এটা আপনাকে স্বীকার করতেই হবে, তায়েফে রক্তাক্ত হয়েও ক্ষমা প্রদর্শনের উদারতার শিক্ষা যুগ যুগ ধরে ওলামায়েকেরাম প্রমাণ করে চলেছেন। যা ইসলাম বিদ্বেষী কোন মহল, তথাকথিত কোন সুশীল সমাজ অস্বীকার করতে পারবেন না।

আশা করি বিশ্ব ইতিহাস আলেমদের উদারতা ও এই অবদান চিরদিন স্মরণ রাখবে। নিন্দুকেরাও ইসলামের জয়গান গেয়ে মানবতার ফেরিওয়ালাদের কাতারে এসে দাঁড়াবেন।

(লেখাটি সত্য মনে হলে অবশ্যই শেয়ার করার অনুরোধ)

Post a Comment

0 Comments