বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানীতে জোহরের ওয়াক্তে মসজিদে মসজিদে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুসল্লিদের নামাজ আদায় করতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে মসজিদুল ফারুক-এর মোয়াজ্জেম শোয়েবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের মসজিদে সরকারের দেওয়া সব শর্ত মেনে নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা। পুরো রমজানজুড়ে এভাবেই আমরা সালাত আদায় করবো।
জোহরের নামাজ আদায় করতে আসা মুসল্লি রাশেদুল হাসান আমিন বলেন, সামাজিক বা শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে মসজিদে নামাজ আদায় করলে করোনার সংক্রমণ ঘটবে না। অন্য সময়ের মতো কাতারে না দাঁড়িয়ে ফাঁকা ফাঁকা হয়ে দাঁড়ানোয় আজ মনে হচ্ছে অনেক মানুষ মসজিদে নামাজ পড়তে এসেছেন। আমার মনে হয় সরকারের বেঁধে দেওয়া শর্ত মেনে চললে করোনা ভাইরাস ছড়াবে না।
‘আমাদের এখানে মসজিদে নিয়ম মেনে নামাজ আদায় করা হচ্ছে। বয়স্ক মানুষ মসজিদে নামাজ পড়তে না আসাই ভালো। কিন্তু অন্য সব এলাকার মসজিদের নিয়ম ঠিকমতো মানছে না- এটাই সমস্যা।’
বাইতুর রহমান জামে মসজিদের পেশ ইমাম শামসুল হক বলেন, শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে মুসল্লিদের নামাজ আদায় করতে বলছি। অনেকেই আমাদের কথা শুনছেন। এখনো মুসল্লিরা অভ্যস্ত হয়ে ওঠেননি। ধীরে ধীরে সব ঠিক হবে।
এর আগে ধর্ম মন্ত্রণালয় ৬ এপ্রিল জুমার জামাতে ১০ জন এবং ওয়াক্তি নামাজে পাঁচজনের জামাতের অনুমতি দেয়। পরে ২৩ এপ্রিল থেকে রমজান মাসে তারাবির জামাতও সীমিত আকারে আদায়ের নির্দেশনা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে। ওই নির্দেশনায় সর্বোচ্চ ১২ জনের মসজিদে নামাজ আদায়ের অনুমতি দিয়েছিল ধর্ম মন্ত্রণালয়।
স্বাস্থ্যবিধিসহ ১২ দফা শর্ত:
১. মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবানুণাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন।
২. মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সবান-পানি রাখতে হবে এবং আগত মুসল্লিকে অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে।
৩. প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে ওজু করে সুন্নত নামাজ ঘরে আদায় করে মসজিদে আসতে হবে এবং ওজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।
৪. কাতারে নামাজে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব অর্থাৎ তিন ফুট পর পর দাঁড়াতে হবে।
৫. শিশু, বয়োবৃদ্ধ, যে কোনো অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি জামাতে অংশ নিতে পারবেন না।
৬. সংক্রমণ রোধ নিশ্চিতকল্পে মসজিদের ওজুখানায় সাবান/হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না।
৭. সর্বসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।
৮. মসজিদে ইফতার ও সেহরির আয়োজন করা যাবে না।
৯. উল্লিখিত শর্ত পালন সাপেক্ষে প্রত্যেক মসজিদে সর্বোচ্চ পাঁচজন নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ইতেকাফ এর জন্য অবস্থান করতে পারবেন।
১০. করোনা ভাইরাস মহামারি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নামাজ শেষে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে দোয়া করার জন্য খতিব ও ইমামদের অনুরোধ করা যাচ্ছে।
১১. এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার হবে।
১২. খতিব, ইমাম ও মসজিদ পরিচালনা কমিটি বিষয়গুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এনএমএস।

0 Comments