কিছুদিন আগের কথা।সময়টা ছিল গৃষ্ম কাল। ঠা ঠা রোদে শরীর থেকে ঘাম ঝরছিলো। যতদূর চোখ যাচ্ছিলো পুরো গ্রামটা ছিল জনমানবহীন। শরীরের প্রশান্তির জন্য বসেছিলাম গ্রামের এক পুকুর মাচায়। চারদিক থেকে আসা বুনোবাতাসেরনোবাতাসের শরীরটা জুড়িয়ে যাচ্ছিল। এমন সময় এক বাল্যবন্ধুর আগমন ঘটল। হাতে তার জলন্ত সিগারেট। মুখ দিয়ে ভুক ভুক করে ধোঁয়া ছেড়ে বলল, "কেমন আছিস রে দোস্ত"
আমি ছোটকাল থেকেই সিগারেটের গন্ধ সহ্য করতে পারতাম না। তাই এসব প্রতিবাদ করে বললাম, "টাকা দিয়ে এইতো টেনে কি মজা পাস?"
সে নিলিপ্ত ভাবে জবাব দিল, "বুঝলি রে হাবিব অনেক টেনশনে আছি, এই একটা মাত্র জিনিসই কেবল টেনশন কমাতে পারে।"
সেদিন তার যুক্তিটা মেনে নিয়েছিলাম, ভেবেছিলাম সিগারেট হয়তো সত্যি টেনশন কমায়। কিন্তু পরবর্তীতে স্টাডি করে জানলাম যে যুক্তিটা সম্পূর্ণ গাঁজাখুরি। শুধু আমার বন্ধু নয় বাংলাদেশের অনেকের মাঝেই এই ভ্রান্ত ধারনা টা বিদ্যমান।
থাকেন। একটা সিগারেটে অগ্নিসংযোগের আগ পর্যন্ত একজন ধূমপায়ী থাকেন দুশ্চিন্তায়। সিগারেটে আগুন জ্বললো, আর ধূমপায়ীর শান্তি হলো। এখন ভেবে দেখুন তো, অশান্তিটা এতক্ষণ আসলে কি নিয়ে ছিলো? অশান্তির কারণ ছিলো কিন্তু সিগারেটের অভাবই, সিগারেট ছাড়া থাকাটাই আসলে ধূমপায়ীর দুশ্চিন্তা, খিটখিটে মেজাজ আর শঙ্কার কারণ, যা কিনা আসলে এক ধরণের উইথড্রয়াল সিনড্রোমই বলা যায়।
নিকোটিনে কি বাড়ে স্ট্রেস?
ধূমপানে আমাদের মস্তিষ্কে নিঃসরিত হয় ডোপামিন যা আমাদের শান্ত করে এবং মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। আর ধূমপায়ীরা ভাবেন যে তাদের স্ট্রেস কমছে। কিন্তু সিগারেট ছাড়া থাকার ফলে সৃষ্ট টেনসনই কেবল ধূমপানের ফলে কমে, আপনার কাজ বা পরিবার সম্পর্কিত টেনসন কিন্তু সত্যিকার অর্থে কমে না, কমলে খুবই সাময়িক। আবার অপর দিকে ধূমপানে আমাদের রক্তচাপ আর হৃৎস্পন্দন বাড়ে, যার কারণে দ্বিগুণ বেগে খাটে আপনার হৃদপিণ্ড, সেটা আপনি তৎক্ষণাৎ বুঝতে পারেন না। ফলে স্ট্রেস কমছে এই ভাবনার আড়ালে কিন্তু আপনি দেহের ক্ষতি করে চলেছেন বহু গুণে।
আসুন জেনে নিই ধূমপানের ক্ষতিকর দিক ধূমপানের ক্ষতিকর দিক সমূহ :
১. ধূমপানকারীর ফুসফুস, মুত্রথলি, ঠোঁট, মুখ, জিহবা ও কণ্ঠনালি, কিডনী ইত্যাদিতে ক্যান্সার হয়।
২. ধূমপান স্মরণশক্তি কমিয়ে দেয় এবং মনোবল দুর্বল করে দেয়।
৩. ইন্দ্রিয় ক্ষমতা দুর্বল করে। বিশেষ করে ঘ্রাণ নেয়া এবং স্বাদ গ্রহণের ক্ষমতা লোপ পায়।
৪. ধূমপায়ীদের শ্রবণশক্তি কমে যায়। সম্প্রতি উইনকনসিন বিশ্ববিদ্যালয় ৩৭৫০ জন লোকের উপর এক সমীক্ষা চালায়। সেখানে লক্ষ্য করা যায় যে, অধূমপায়ীদের চেয়ে ধূমপায়ীদের শ্রবণশক্তি কমার সম্ভাবনা শতকরা ৭০ ভাগ বেশী। গবেষকরা আরো দেখেছেন যে, একজন ধূমপায়ীর ধূমপানকালীন সময়ে কোন অধূমপায়ী উপস্থিত থাকলে তারও একই সমস্যা দেখা দেবে।
৫. ধূমপানের ফলে মানুষ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং বার বার সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়। ধূমপায়ী সব সময় দুর্বলতা অনুভব করে এবং আতঙ্কগ্রস্থ থাকে।
৬. হার্টের সাথে সম্পৃক্ত ধমনিগুলো ব্লক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হয়। এমনকি বক্ষ ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
৭. ধূমপান উচ্চ রক্ত চাপের কারণ হয়।
৮. ধূমপানের ফলে যৌনশক্তি বিলুপ্ত হ’তে থাকে।
৯. ধূমপানের ফলে হজমশক্তি কমে যায়, ধারণক্ষমতা লোপ পায় এবং শরীর ঢিলে হয়ে যায়।
১০. ধূমপানের ফলে পাকস্থলী ক্ষত হ’তে থাকে এবং যকৃৎ শুকিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
................ পোস্ট হতে প্রাপ্ত শিক্ষাঃ..............
#ধুমপান_কখনো_টেনশন_কমায়_না।
#ধুমপান_স্বাস্থ্যর_জন্য_ক্ষতিকর।
স্বত্বাধিকার।



0 Comments